পিত্তথলির ক্যান্সার এক ধরনের বিরল ক্যান্সার। পিত্তথলির ক্যান্সার বলতে পিত্তথলিতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বোঝায়। এটি পিত্তথলির ভিতরের স্তর থেকে উৎপন্ন হয়, যা মিউকোসাল স্তর নামে পরিচিত এবং ধীরে ধীরে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পিত্তথলি, লিভারের নীচে একটি ছোট নাশপাতির আকারের অঙ্গ যা পিত্তরস সঞ্চয় করে। আমরা যে খাবার খাই তাতে উপস্থিত চর্বি হজমে পিত্তরস যকৃতকে সাহায্য করে।
পিত্তথলির ক্যান্সার বিরল হওয়ার পাশাপাশি এর থেকে সুস্থ হয়ে উঠার হার কম কারণ এই ক্যান্সার অ্যাডভান্সড স্টেজে পৌঁছলে লক্ষণ প্রকাশ করতে শুরু করে এবং অনেকক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।
পরিসংখ্যান
পিত্তথলির ক্যান্সার অনেকের কাছেই অজানা একটি বিষয়। যে ক্যান্সারগুলোর প্রকোপ দেখা যায় তার মধ্যে এর অবস্থান ২২তম। এটি নারীদের ক্ষেত্রে ২০তম এবং পুরুষদের মধ্যে ২৩তম দায়ী ক্যান্সার।
ঝুঁকির কারণ ও লক্ষণ
- লিঙ্গ (নারীদের ক্ষেত্রে প্রকোপ বেশি)
- জাতিগোষ্ঠী (আমেরিকান ইন্ডিয়ান, আলাস্কান বা মেক্সিকান-আমেরিকান)
- ৬৫ বছর বা তার অধিক বয়সী
- পিত্তথলিতে পাথর থাকলে
- পিত্তথলির পলিপস
- দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলির প্রদাহ
- পোরসেলিন গলব্লাডার (পিত্তথলিতে ক্যালসিয়াম জমা হয়ে আস্তর পড়ে যায়)
- কোলেডোকাল সিস্ট
- পিত্ত নালীর অস্বাভাবিকতা
- প্রাইমারি স্ক্লেরোজিং কোলাঞ্জাইটিস
- স্থূলতা
- টাইফয়েড
পিত্তথলির ক্যান্সারের লক্ষণগুলি রোগী ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। লক্ষণগুলো সাধারণত অ্যাডভান্সড স্টেজে গিয়ে প্রকাশ পেতে শুরু করে আবার কখনো কখনো কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। যে লক্ষণগুলোকে পিত্তথলির ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-পেটের উপরের অংশে ব্যথা, জন্ডিস, পেটে পিন্ড বা দলা সদৃশ, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা, জ্বর, ক্ষুধামন্দা এবং পেটের ডান দিকে ব্যথা।
প্রতিরোধ
পিত্তথলির ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে।
- স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখা
- নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস
- মদ্যপান এড়িয়ে চলা
- ধূমপান পরিত্যাগ
চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে পিত্তথলির ক্যান্সার যদি নির্ণয় করা যায় তাহলে নিম্নোক্ত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা হয়, যেমন -
- সার্জারি
সার্জারির মাধ্যমে এই ক্যান্সারের চিকিৎসায় সফলতা সবচেয়ে বেশি। একজন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট কোলেসিস্টেক্টমি করতে পারেন, যার মাধ্যমে পিত্তথলি বা সংলগ্ন টিস্যু অপসারণ করা হয়। - রেডিয়েশন থেরাপি
রেডিয়েশন ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিউমারের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। - কেমোথেরাপি
কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ঔষধগুলো ক্যান্সারকে ধ্বংস করে বা এর বিস্তার রোধ করতে সাহায্য করে। - টার্গেটেড থেরাপি
এই চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট জিন মিউটেশন বহনকারী ক্যান্সার কোষগুলোকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করে। - ইমিউনোথেরাপি
এই চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয় এবং ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
