বাংলাদেশে ক্যান্সার পরিস্থিতি

ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দৃশ্যপট অনেকটা একই রকম।

আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং এই সংখ্যা দিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতে এটি একটি বোঝাস্বরূপ এবং চিন্তার বিষয়ও বটে। এটি বাংলাদেশের মানুষের মৃত্যুর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্যান্সার মানসিকভাবে ক্লান্তিকর এবং অনেকের জন্য এটি আর্থিকভাবে ধ্বংসাত্মক রুপ ধারণ করে। ব্যয়বহুল চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, দেশীয় চিকিৎসকদের প্রতি অনাস্থা, বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রশিক্ষিণ প্রাপ্ত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসা সুবিধার অপর্যাপ্ততা-এই বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে একটি কার্যকর ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার তাগিদ সৃষ্ট করেছে। 

বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি?  
স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, জরায়ুর ক্যান্সার, যকৃত ক্যান্সার এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রকোপ বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়।

ক্যান্সারের নাম প্রধান কারণ ছাড়াও, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্যান্সারের জন্য দায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কারণগুলি
স্তন ক্যান্সার জীবনযাত্রার পরিবর্তন, দেরিতে গর্ভধারণ, অপর্যাপ্ত স্ক্রিনিং সুবিধা এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবে স্তন ক্যান্সারের দিকে প্রকোপ বেড়েছে। 
ফুসফুসের ক্যান্সার আমাদের দেশে বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ধূমপান এবং বায়ু দূষণ ফুসফুসের ক্যান্সারের দুটি প্রধান কারণ।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের অভাব, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে যৌন সঙ্গম, যৌন রোগ এবং নিম্ন আর্থ সামাজিক অবস্থা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী। 
যকৃত ক্যান্সার আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণের ঘটনা বেশি, যার ফলে যকৃত ক্যান্সার হয়।
কলোরেক্টাল ক্যান্সার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ। 


বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে কেন?

বয়স
বয়স সবসময়ই ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে এবং বয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হচ্ছে।

জীবনযাত্রা
নগরায়নের ফলে আমাদের জীবন উন্নত হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে মানুষ কিছু কিছু অস্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, যা হানিকারক। এছাড়াও, এই যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে। 

খাদ্যাভাস
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ক্যান্সারের অন্যতম আরেকটি কারণ। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, স্বল্প ফাইবারযুক্ত খাবার এবং অপর্যাপ্ত ফল ও সবজি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

ধূমপান
বাংলাদেশে ধূমপানের হার বেশি। তামাকের ব্যাপক ব্যবহার বিভিন্ন ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।

দূষণ
আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে মারাত্মক বায়ু দূষণ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দূষণও রয়েছে এবং এই দূষণ ক্যান্সারের জন্য দায়ী। 

চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতা
বাংলাদেশে, ক্যান্সার নির্ণয়ের সরঞ্জামগুলি ব্যয়বহুল এবং সেগুলো থেকে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পেতেও বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। ডিম্বাশয়, যকৃত বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের মতো আরো বেশ কয়েক ধরণের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করানোর সুব্যবস্থা নেই। 

সচেতনতার অভাব
আমাদের দেশের মানুষকে ক্যান্সার সম্পর্কিত তথ্য সঠিকভাবে জানানো হয় না। আমরা ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানুষকে এই ব্যাপারে অবগত করতে পিছিয়ে আছি।


Fighting Cancer Desk
ফাইটিং ক্যান্সার ডেস্ক