প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৫ :০২

ক্যান্সার রোগীর শরীরে রোজা রাখার প্রভাব

আমরা সবাই কমবেশি জানি যে প্রায় ১৩টি ক্যান্সারের(যেমন-ব্রেস্ট, কোলোরেক্টাল ও প্যানক্রয়াটিক ক্যান্সার) ক্ষেত্রে স্থূলতাকে একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। রোজা রাখার ফলে ওজন হ্রাস পায় এবং গবেষকগণের মতে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওজন হ্রাসের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। কিন্তু সুস্পষ্ট একটি মতবাদের জন্য এই বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

রমজানের আগে, যেসব ক্যান্সার রোগী রোজা রাখতে ইচ্ছুক তাদের অবশ্যই একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে জেনে নিতে হবে যে তিনি রোজা করতে পারবেন কিনা।সাধারণত আমরা শুনে থাকি যে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে বা ক্যান্সার ক্যাচেক্সিয়াতে ভুগিছে বা ইটিং ডিসঅর্ডার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে রোজা না রাখাই ভালো। 

গবেষকদের মতে, রোজা রাখার ফলে ক্যান্সার রোগীদের উপর বেশকিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়ে-

  • ব্রেস্ট ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি
    সান ডিয়েগোতে অবস্থিত বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ সম্মিলিতভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায় যে রোজা রাখার ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তির হার অনেকাংশে কমে যায়। 
  • ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি হ্রাস পায়
    সুস্থ কোষের তুলনায় ক্যান্সার কোষ অনেক বেশি পরিমানে গ্লুকোজ গ্রহণ করে। রোজা থাকার ফলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়ক
    কিছু গবেষকদের মতে রোজার সময় আমাদের শরীরে ক্যালরির পরিমাণ কমে যায় যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে যারা রোজা রাখতে পারছে না তাদের তুলনায় যারা রোজা রাখছে তারা কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে অধিক সহিষ্ণুতা দেখায় এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন অবসাদ, বমিবমি ভাব ও মাথাব্যথা কম হয়। 
  • ক্রনিক কন্ডিশনগুলোর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
    বেষকদের মতে কিছু ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন যেমন স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। রোজা রাখার ফলে ওজন কমে যায় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • কোষ পুনর্গঠনকে ত্বরাণ্বিত করে
    অটোফ্যাগি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহের অবাঞ্ছিত কোষ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো প্রতিস্থাপিত হয়। অটোফ্যাগি প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতিতে মানবদেহে টিউমার সাপ্রেসিং জিনের পরিমাণ কমে যায় যা ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়
    একটি গবেষনায় দেখা যায় যে, রোজা রাখার ফলে ইমিউন সিস্টেমের স্টেম সেলগুলো নিজে থেকে পুনর্গঠনের জন্য, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে প্রতিস্থাপনের জন্য উদ্দীপিত হয়। আমরা জানি যে শ্বেত রক্তকণিকা শরীরের ইনফেকশন ও বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করে। কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যায় এবং এর ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেমের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 

Fighting Cancer Desk
ফাইটিং ক্যান্সার ডেস্ক