ক্যান্সার চিকিৎসায় সর্বজন পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে কেমোথেরাপি। কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে রোগীর শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। রোগী ভেদে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বা এগুলোর তীব্রতা ভিন্ন হয়ে থাকে। রোগীদের সহনশীলতা এবং শরীরের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে সেটিও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
কেমোথেরাপি সম্পন্ন হওয়ার পরে সাধারণত যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হয়-
- চুল পড়ে যাওয়া (কেবল মাথার চুলই নয়, ভ্রু এবং শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও চুল পড়ে যেতে পারে)
- রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যায়
- নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায়
- বমিবমি ভাব
- বমি
- অবসাদ
- ক্ষুধামন্দা
- মুখে ক্ষত (কোনো কিছু গিলতে কষ্ট হয়)
- হজমে ও খাওয়াদাওয়া করতে সমস্যা
- সন্তান ধারনে সমস্যা
- কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হয়
- আবেগজনিত সমস্যা হয়
এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো আবেগজনিত ও মানসিক কিছু পরিবর্তন আনে। রোগী সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে তার অনুভূতিগুলোর খেয়াল রাখা এবং খুব সূক্ষভাবে যত্ন নেওয়া। তাই একজন কেয়ার গিভার বা কাছের মানুষ হিসেবে একজন রোগী এই সময়গুলোতে ঠিক কেমন অনুভব করে থাকেন সেই অনুভূতিগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরী।
- অবসাদ: এটি প্রায়শই ঘটে থাকে। কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার পরে রোগীরা খুব ক্লান্ত বোধ করে থাকেন।
- উদ্বেগ নিরসন: কেমোথেরাপি অবশেষে শেষ হলো! এর মানে এটাই দাঁড়ায় যে আপনি একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করে ফেলেছেন। রোগী অনেকটা স্বস্তি বোধ করেন এবং সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
- আশা: কেমোথেরাপি দেওয়া শেষ হলে তা একজন ক্যান্সার রোগীর মনে নতুন করে আশা জাগায়।
- দুশ্চিন্তা: ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার শংকা এবং কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হয় তা রোগীর মনে দুশ্চিন্তা ও ভয়ের সৃষ্টি করে। ক্যান্সারের সাথে ‘অনিশ্চয়তা’ শব্দটি যেন ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
- দুঃখ: কেমোথেরাপি নেওয়ার ফলে একজন ক্যান্সার রোগীকে শারীরিক এবং জীবনযাত্রার নানা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হয়। এর ফলে মনে এক ধরনের দুঃখ বোধের সৃষ্টি হয়।
- বাহ্যিক রূপ নিয়ে চিন্তা: শারীরিক নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের বাহ্যিক পরিবর্তনগুলো মেনে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
- সম্পর্কে পরিবর্তন: ক্যান্সার এবং এর চিকিৎসাকালীন সময়, এক কথায় এই পুরো জার্নিটা একজন রোগীর জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটি সম্পর্ককেই কিছুটা হলেও পাল্টে দেয়। কিছু সম্পর্ক আগের চেয়েও মজবুত হয় আর কিছু সম্পর্ক হারিয়ে যায় চিরতরে।
- জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া: বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সম্পর্কে পরিবর্তন, শারীরিক সমস্যা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন-এসব কিছুই একজন ক্যান্সার রোগীকে “জীবনের অর্থ” খোঁজার মতো চিন্তার খোরাক যোগায়।